EDD (Expected date of delivery)নির্ধারণের পদ্ধতি
EDD (Expected Date of Delivery) বা সম্ভাব্য প্রসবের তারিখ নির্ধারণ করার জন্য কয়েকটি পদ্ধতি রয়েছে। ডাক্তাররা সাধারণত একাধিক পদ্ধতি ব্যবহার করে একটি নির্ভরযোগ্য তারিখে পৌঁছান। নিচে প্রধান পদ্ধতিগুলো আলোচনা করা হলো:
১. শেষ মাসিকের তারিখ (LMP) অনুযায়ী – নেগেলের সূত্র (Naegele’s Rule)
এটি সবচেয়ে প্রচলিত এবং সহজ পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে EDD গণনা করার জন্য আপনার শেষ মাসিকের প্রথম দিন (First Day of your Last Menstrual Period – LMP) জানতে হবে।
গণনা করার নিয়ম:
-
আপনার শেষ মাসিকের প্রথম তারিখটি নিন।
-
সেই তারিখের সাথে ৭ দিন যোগ করুন।
-
প্রাপ্ত মাস থেকে ৩ মাস পিছিয়ে যান।
-
এবং বছরের সাথে ১ বছর যোগ করুন।
একটি সহজ বিকল্প নিয়ম:
-
শেষ মাসিকের প্রথম দিনের সাথে ৯ মাস এবং ৭ দিন যোগ করুন।
উদাহরণ:
ধরুন, আপনার শেষ মাসিকের প্রথম দিন ছিল ১০ জানুয়ারি, ২০২৪।
-
ধাপ ১: ১০ জানুয়ারির সাথে ৭ দিন যোগ করলে হয় ১৭ জানুয়ারি, ২০২৪।
-
ধাপ ২: জানুয়ারি মাস থেকে ৩ মাস পিছিয়ে গেলে হয় অক্টোবর মাস (জানুয়ারি -> ডিসেম্বর -> নভেম্বর -> অক্টোবর)।
-
ধাপ ৩: বছরের সাথে ১ যোগ করলে হয় ২০২৫।
-
সুতরাং, আপনার সম্ভাব্য প্রসবের তারিখ (EDD) হবে ১৭ অক্টোবর, ২০২৪।
বিকল্প নিয়ম অনুযায়ী:
-
১০ জানুয়ারি, ২০২৪ + ৯ মাস = ১০ অক্টোবর, ২০২৪।
-
১০ অক্টোবর, ২০২৪ + ৭ দিন = ১৭ অক্টোবর, ২০২৪।
এই পদ্ধতির সীমাবদ্ধতা:
-
এই পদ্ধতিটি কেবল সেই নারীদের জন্য সবচেয়ে কার্যকর, যাদের মাসিক চক্র নিয়মিত এবং ২৮ দিনের।
-
যাদের মাসিক চক্র অনিয়মিত, খুব ছোট বা খুব দীর্ঘ, তাদের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতিতে গণনা করা EDD সঠিক নাও হতে পারে।
২. আলট্রাসাউন্ড স্ক্যান (Ultrasound Scan)
গর্ভধারণের তারিখ নির্ধারণের জন্য এটি সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য এবং নির্ভুল পদ্ধতি, বিশেষ করে গর্ভধারণের প্রথম দিকে।
কিভাবে কাজ করে:
-
প্রথম ত্রৈমাসিক (First Trimester – গর্ভধারণের প্রথম ১৩ সপ্তাহ): এই সময়ে আলট্রাসাউন্ড করে ভ্রূণের আকার মাপা হয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিমাপটি হলো ক্রাউন-রাম্প লেংথ (Crown-Rump Length – CRL), অর্থাৎ ভ্রূণের মাথা থেকে নিতম্ব পর্যন্ত দৈর্ঘ্য। গর্ভধারণের প্রথম দিকে সব ভ্রূণের বৃদ্ধির হার প্রায় একই রকম থাকে, তাই এই পরিমাপ থেকে খুব নির্ভুলভাবে গর্ভধারণের বয়স এবং EDD নির্ধারণ করা যায়।
-
দ্বিতীয় ও তৃতীয় ত্রৈমাসিক: এই সময়ে শিশুর মাথার পরিধি (Head Circumference – HC), পেটের পরিধি (Abdominal Circumference – AC) এবং ফিমার বা উরুর হাড়ের দৈর্ঘ্য (Femur Length – FL) মেপে EDD অনুমান করা হয়। তবে এই সময়ে শিশুর নিজস্ব জিনগত কারণে বৃদ্ধির হারে ভিন্নতা আসে, তাই প্রথম দিকের আলট্রাসাউন্ডের রিপোর্টই EDD নির্ধারণের জন্য সবচেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য।
ডাক্তাররা সাধারণত LMP অনুযায়ী পাওয়া EDD-এর সাথে প্রথম ত্রৈমাসিকের আলট্রাসাউন্ডের EDD মিলিয়ে দেখেন। যদি দুটির মধ্যে ৭ দিনের বেশি পার্থক্য থাকে, তবে আলট্রাসাউন্ড রিপোর্টকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় এবং সে অনুযায়ী EDD নির্ধারণ করা হয়।
৩. গর্ভধারণের তারিখ (Date of Conception)
যদি গর্ভধারণের সঠিক তারিখ জানা থাকে, তবে EDD গণনা করা আরও সহজ।
-
কখন জানা সম্ভব: যারা ওভুলেশন (Ovulation) ট্র্যাক করেন বা IVF (In Vitro Fertilization)-এর মতো পদ্ধতির মাধ্যমে গর্ভধারণ করেন, তাদের ক্ষেত্রে গর্ভধারণের বা ভ্রূণ প্রতিস্থাপনের তারিখ জানা থাকে।
-
এই তারিখ থেকে ৩৮ সপ্তাহ যোগ করে EDD গণনা করা হয়, কারণ একটি পূর্ণ গর্ভকাল প্রায় ৩৮ সপ্তাহ (বা ২৬৬ দিন) স্থায়ী হয়।
কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখবেন:
-
EDD একটি আনুমানিক তারিখ: এটি মনে রাখা খুব জরুরি যে EDD কেবল একটি সম্ভাব্য তারিখ। মাত্র ৪-৫% শিশুর জন্ম তাদের নির্ধারিত EDD-তে হয়।
-
স্বাভাবিক প্রসবের সময়: বেশিরভাগ শিশুর জন্ম EDD-এর দুই সপ্তাহ আগে বা পরে (অর্থাৎ গর্ভধারণের ৩৮ থেকে ৪২ সপ্তাহের মধ্যে) হয়। এই পুরো সময়টাকেই স্বাভাবিক বলে গণ্য করা হয়।
-
EDD পরিবর্তন হতে পারে: আপনার ডাক্তার প্রাথমিক গণনার পর প্রথম আলট্রাসাউন্ড রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে আপনার EDD পরিবর্তন বা নিশ্চিত করতে পারেন।
আপনার গর্ভধারণের সঠিক EDD জানার জন্য একজন গাইনোকোলজিস্টের সাথে পরামর্শ করা সবচেয়ে ভালো। তিনি আপনার LMP এবং আলট্রাসাউন্ড রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে সবচেয়ে নির্ভুল তারিখটি নির্ধারণ করে দেবেন।